ভূ-রাজনীতির যুগে বাংলাদেশ কতটুকু প্রস্তুত?

 ১৩ জুন,২০২৫ ভোরে ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হামলা শুরু করে। এই অভিযানের কোডনাম ছিল অপারেশন রাইজিং লায়ন (Operation Rising Lion)।এই হামলা পরিচালনা করে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ও মোসাদ। পারমানবিক চুক্তিতে পশ্চিমাদের পুতুল না হওয়ার দরুণ কোনোরূপ আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে উস্কানিমূলক  এ হামলা চালায় ইসরায়েল।তাদের লক্ষ্য ছিল পারমাণবিক স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন। এই হামলা ছিল ইরানে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরান–ইরাক যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান। 








বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত পশ্চিমাদের দাসত্ব না করে ইরান নিজেদের দেশের মেধা ও জনসম্পদকে কাজে লাগিয়ে নিজেরা সকল বিষয়ে সক্ষমতা অর্জন করেছে তাই তাদের বর্তমানে দেশের আত্মরক্ষা ও শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্যে আমেরিকা কিংবা অন্য পশ্চিমা দেশের কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে হয় না। নিজেদের সক্ষমতা অর্জনের এ আদর্শিক নীতি অন্য দেশসমূহেও প্রভাব পড়তে পারে যার ফলে পশ্চিমাদের ব্যবসায় ভাটা পরতে পারে। তাছাড়া ইরান এখন পারমাণবিক অস্ত্রের খুব কাছাকাছি যার ফলে পশ্চিমাদের রক্তচক্ষু তারা আর সহ্য করবে না। ইরান আর হোক বাংলাদেশের মত বিসিএস ক্যাডার বানিয়ে এসি রুমে খাতা কলম দিয়ে বসিয়ে রাখেনি তাদের জনগণকে দক্ষ করে গড়ে তুলেছে যারা ব্যালিস্টিক মিসাইল, অত্যাধুনিক ড্রোন, যুদ্ধ-বিমান বানিয়েছে যার নমুনা আমরা আটদিন যাবত যুদ্ধে দেখতে পাচ্ছি। সময়ের সাথে সাথে যুদ্ধে ও ভূরাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন এসেছে। এখন স্থলপথ ও জলপথের চেয়ে আকাশপথে যুদ্ধ হয় বেশি। 


সামান্য কিছু বিবৃতিতেও যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার মত ভূ-রাজনীতির যুগে আমাদের বাংলাদেশ কতটুকু প্রস্তুত যদি তাঁর উপর কখনো মিসাইল পড়ে কিংবা ড্রোন হামলা হয়? আমাদের কি নেতাদের ও আমলাদের মুখের বড় বড় বিবৃতি ছাড়াও ব্যালেস্টিক মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে? আমাদের যথেষ্ট পরিমাণ অত্যাধুনিক ড্রোন কিংবা যুদ্ধ বিমান আছে? দেশপ্রেমের মিথ্যা নাটক করে নানা পেশা শ্রেণির বড় বড় অঙ্কের টাকা চোরেরা ছাড়াও কি যেকোন দেশের হুঙ্কার মোকাবিলা করার মত প্রস্তুতি আছে? যেসবের উত্তর আশারাখি সকলেরই কম-বেশি জানা।


আমাদের দেশে গবেষণাগার আছে কিন্তু উদ্ভাবন নেই কেননা এ খাতে নেই পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও আগ্রহ। কেবল বস্তা পঁচা থিসিস আর ফরম্যাট কারেকশনে পড়ে আছি আমরা। শুধু বিসিএস ক্যাডার, চাকুরি, ব্যবসায়ী আর উদ্যোক্তা দিয়ে চলবে না, একটি রাষ্ট্রের চারটি মূলস্তম্ভের মধ্যে সার্বভৌমত্ব অন্যতম যা রক্ষায় আমাদের বর্তমান সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে নচেৎ আমরা একদিন ঘোর অমানিশায় মিলিয়ে যাবো মুহূর্তেই। কাজেই জনগণকে বহুমুখী কাজ ও দক্ষতায় দীক্ষিত করে তোলার মত প্রয়োজনীয় পরিবেশ সৃষ্টি করুন, বাংলাদেশকে রক্ষা করুন যেনো আত্মমর্যাদা নিয়ে দাঁড়াতে পারে সর্বদা।

Comments